মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলা

জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ৩১ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে জাপান

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির অবনতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে প্রায় ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান।

অর্থনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গতকাল দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

জাপান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নোট বিনিময় (এক্সচেঞ্জ অব নোটস) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো এবং ইআরডি সচিব ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির আওতায় জাপান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলারের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ দেবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ সহায়তা কর্মসূচির লক্ষ্য সাম্প্রতিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব প্রশমিত করা। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতির ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তা থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি মোকাবেলায় এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ঋণের অর্থ বাংলাদেশের রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া ও দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এ সহায়তা দুই দেশের অটুট অংশীদারত্বের প্রতিফলন।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় বাংলাদেশ-জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।

জাপান দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঋণের আঞ্চলিক ও কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। এটি ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশটির প্রথম ওডিএ ঋণ প্রকল্প। চলতি বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ‘এজেডইসি প্লাস অনলাইন সামিট অন এনার্জি রেজিলিয়েন্সে’ জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে এ উদ্যোগ চালু করেন। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অংশ নেন।

পাওয়ার এশিয়ার লক্ষ্য জরুরি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়ার জ্বালানি ও সম্পদ-নিরাপত্তা জোরদার করা। এ উদ্যোগের আওতায় জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখা, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং শিল্প খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়া হবে।

দূতাবাস বলছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থিতিশীলতায় সহায়তার পাশাপাশি এ ঋণ জাপানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহ শৃঙ্খলসহ এশিয়ার বিভিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থার সহনশীলতা জোরদারেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতাসহ বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরো এগিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আরও